ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার চীনের ব্যাপক আকারে চীনের বিনিয়োগ আসবে, আশা প্রেস সচিবের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় বেইজিংয়ের কাছে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চায় ঢাকা ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ডাকাতি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ নিরাপত্তা দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলন নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ আহত ৬ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংস্কারের কথা বলেও পরে কথা রাখেনি- নাহিদ ঈদে ফিরতি যাত্রায় ৮ এপ্রিলের টিকিট মিলবে আজ মিয়ানমারে দু’দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশও পানি সঙ্কটে উত্তরাঞ্চলের কৃষি বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরে সহায়তা করবে চীনা এক্সিম ব্যাংক ভারত থেকে কেনা হবে আরও ৫০ হাজার টন চাল ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে তিন স্তরের নিরাপত্তা ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও অর্থনীতিতে স্থবিরতা আসবে না-অর্থ উপদেষ্টা মিয়ানমারে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গারা নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ রাজধানীতে তীব্র যানজট

বইমেলা নিয়ে একজন প্রকাশক-লেখকের চিন্তন

  • আপলোড সময় : ২২-০২-২০২৫ ০৩:৫৯:০৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০২-২০২৫ ০৩:৫৯:০৯ অপরাহ্ন
বইমেলা নিয়ে একজন প্রকাশক-লেখকের চিন্তন
 মোমিন মেহেদী
শুরু হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এ মেলা লেখক, পাঠক এবং প্রকাশকদের প্রাণের মেলা। মেলাকে ঘিরে বাংলা একাডেমির মহাব্যস্ততা, নানান দিক সামলাতে হয়। বছরের ৯০% বই প্রকাশ হয় মেলাকে উপলক্ষ্য করে। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে হাজার হাজার নতুন বই আসবে মেলায় যার অধিকাংশই নতুন লেখকদের। নতুন লেখকদের মাঝে দেখা যাবে প্রথম প্রেমে পড়ার মতো এক ধরনের চাপা উত্তেজনা। কিন্তু তবুও দিন শেষে বই বিক্রি বাড়ে না; বাড়ে উত্তেজনার পর উত্তেজনা।
আমি লেখক থেকে প্রকাশক হওয়ার কারণে বাণিজ্যিক বিষয়টি একটু কম করেই দেখি। বেশিরভাগ বইয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্য করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের গুটিকয়েক লেখকের বইয়ে একটু বাণিজ্য হয়। বাকি লেখকদের মধ্যে যেমন ধরেন, আমার এখানে প্রায় ৭০ জনের বই প্রকাশ হচ্ছে ৭০টি। সেখানে ৬০টি বই বাণিজ্যের বাইরে থাকবে। মাত্র ১০ লেখকের বই থেকে বাণিজ্য যা হওয়ার হবে।
এখন আপনি বলতে পারেন, তা হলে আমরা এত বই প্রকাশ করি কেন! এর কারণ হচ্ছে, আমরা যদি ওইসব লেখকের বই প্রকাশ না করি, তা হলে কীভাবে জানব কে ভালো লেখেন এবং কীভাবে তারা ভালো লেখক হবেন। তাই ভালো লেখক তৈরি করার জন্য আমাদের এসব লেখকের বই প্রকাশ করতে হয়। এ জন্যই আপনারা দেখছেন প্রতিবছর মেলা থেকে কেউ না কেউ জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। আর জনপ্রিয় হতে তো সময় লাগবে! প্রথম দিনেই তো কেউ জনপ্রিয় হয় না। হুমায়ূন আহমেদ তো একদিনে জনপ্রিয় লেখক হয় ওঠেননি।
ফলে নতুনদের সুযোগ করে দিতে হবে। ওই সুযোগ না পেলে কীভাবে জনপ্রিয় হবেন তারা। এ ছাড়া পাঠক ভালো লেখকের বই কম পড়েন। পাঠক একটু চকচকে বই পছন্দ করেন। এই মানসিকতা থেকে বের হওয়াটা খুব বেশি প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কেননা, পাশ্চাত্যের ৯০ ভাগ বই-ই লেখার মান বিবেচনায় প্রকাশিত হয়, ঝকঝকে তকতকে পৃষ্ঠা বা প্রচ্ছদকে মাথায় রেখে নয়। সেই সাথে বলতে চাই- সারাদেশে সহিংসতা যখন বাড়ছে, তখন কেবলই মনে হচ্ছে যে, জাতি ভালোবাসতে ভুলে যাচ্ছে। অথচ ভালোবাসা হল এক ধরনের অদৃশ্য সম্পর্ক যা মানুষের হৃদয়ে গভীর অনুভূতি সৃষ্টি করে। এটি শুধুমাত্র রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবার, বন্ধুবান্ধব, এবং মানবতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমেও ভালোবাসা ফুটে ওঠে।
ভালোবাসা এমন এক শক্তি যা মানুষকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে, সাহায্য করতে, এবং মন্দের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে। ভালোবাসা কখনও কখনও বিনিময়হীন, নির্দ্বিধায় এবং নিঃস্বার্থ হয়। এটি একে অপরকে বোঝা, সঙ্গ দেয়া এবং অপরের জন্য চিন্তা করার অনুভূতি নিয়ে গঠিত। তাই, ভালোবাসা কেবল একটি অনুভূতি নয়, বরং এটি এক ধরনের আত্মদান, শ্রদ্ধা, এবং সামগ্রিক মানবিকতা। সেই সাথে ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বলতে চাই- মনে রাখুন ভালোবাসা আর বই মানুষের অন্যতম সেরা বন্ধু।
জ্ঞান অর্জন, কল্পনার বিকাশ, মনের খোরাক এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। যুগ যুগ ধরে বই আমাদের সভ্যতার অন্যতম প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করেছে। মানুষ তার চিন্তা, অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং জ্ঞানের ভাণ্ডার বইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করেছে। বই পড়ার প্রতি ভালোবাসা কেবল বিনোদন নয়, এটি এক গভীর আবেগ ও আত্মিক সম্পর্কের প্রতিফলন। এই প্রবন্ধে বইয়ের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব, তার প্রভাব, এবং কীভাবে বই আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে, তা আলোচনা করা হবে।
স্বজন, প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি বইয়ের প্রতি ভালোবাসার অনেক কারণ রয়েছে। এটি শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং আত্ম-উন্নয়ন, কল্পনাশক্তির বিকাশ এবং মানসিক প্রশান্তিরও উৎস। বই আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের সুযোগ করে দেয়। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, ধর্মÑপ্রত্যেকটি বিষয়ে অসংখ্য বই রয়েছে যা আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে। একটি ভালো গল্প বা উপন্যাস পাঠকের কল্পনার দুয়ার খুলে দেয়।
বই পড়লে আমরা গল্পের চরিত্রগুলোর সাথে আত্মিকভাবে যুক্ত হতে পারি এবং তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেতে পারি। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে বই পড়া দারুণ উপকারী। একটি ভালো বই মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং প্রশান্তি এনে দেয়। আত্ম-উন্নয়নমূলক বই আমাদের চিন্তাধারা গঠন করে, ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করে এবং আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
অবসর সময়কে সৃজনশীলভাবে কাজে লাগানোর জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এটি সময়কে অর্থবহ করে তোলে। যারা বই পড়ার প্রতি আসক্ত নন, কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য কিছু উপায় নিম্নে দেয়া হলো: যদি কেউ বই পড়ায় নতুন হন, তবে ছোট গল্পের বই বা সহজ ভাষার উপন্যাস দিয়ে শুরু করা উচিত। প্রতিদিন ৩০ মিনিট বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখলে ধীরে ধীরে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে। সব বই সবার ভালো লাগবে না, তাই নিজের পছন্দের বিষয়বস্তুর বই পড়লে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। বন্ধু বা বইপ্রেমী সংগঠনের সাথে বই নিয়ে আলোচনা করলে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। নিরিবিলি পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে বই পড়া সম্ভব, যা পাঠের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশের ফলে বই পড়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। কাগজের বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক এবং অডিওবুক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বই মানে জ্ঞানের ধারাপাত, তাই বইকে ভালোবাসা দিবসে সবার আগে রাখুন, প্রিয়তমাকে বই দিন, সন্তানকে বই দিন, মা-বাবা বা অভিভাককেও বই উপহার দিন। এতে করে আবারো প্রমাণিত হবে- বই শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। জ্ঞানার্জন, কল্পনার বিকাশ, আত্ম-উন্নয়ন, এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রযুক্তির যুগে বই পড়ার অভ্যাস কিছুটা পরিবর্তিত হলেও, বইয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনও কমবে না। তাই, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোন। এই আলোয় ভালোবাসা দিবস সফল হবে, সফল হবে ভালোবাসার স্বচ্ছ পথচলা। সেই সাথে অনুরোধ ভালো বই পড়ার পাশাপাশি সুন্দরের পথে হাঁটুন, সকল অসুন্দরকে ‘না’ বলুন নিমগ্ন ভালোবাসায়।
একজন প্রকাশক হিসেবে বিভিন্ন ধরনের লেখকদেরকে দেখেছি খুব কাছ থেকে। যেমন একজন লেখক নিজেকে প্রকাশক হিসেবে আবির্ভূত করতে উঠে পড়ে লেগেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। তিনি নিজের সব লজ্জাকে বিদায় জানিয়ে আরেকজন প্রকাশকের কাছে ধরনা দেয়া শুরু করলেন বই প্রকাশ করিয়ে দেয়ার জন্য। এই যে শৌখিন প্রকাশক, তিনি আবার ঠকাতেও ওস্তাদি শুরু করলে আমার কাছে সেই প্রকাশক বেশ কয়েকবার জানিয়েছেন। আমি কেবল বলেছি- ‘এড়িয়ে চলুন।’ গত বছর আমার প্রকাশনী থেকে যে বইগুলো প্রকাশিত হয়, এর মধ্যে বেশিরভাগই বিক্রি না হওয়ায় শো-রুমে পড়ে আছে। এ বছর যদি ওই বইগুলো থেকে কিছু বিক্রি হয়, তা হলে টাকাগুলো আমার ঘরে যাবে। মেলার বিন্যাস নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার মেলার বিন্যাস বেশ ভালো হয়েছে। তবে আমার কথা হলো, মেলাবিন্যাস শুধু মেলার মধ্যে করলেই হবে না। মেলাটিকে আরও সুন্দর করতে হরে এর সঙ্গে কিছু উপসর্গের প্রয়োজন আছে। যেমন ধরুন, মেলায় গাড়ি পার্কিংয়ের একটি ব্যবস্থা রাখার জন্য। মেলায় প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। কিন্তু সবাই কেনে না। মেলায় আসা ১০০ জনে ১০ জনের কাছে বই বিক্রির আশা করি।
বতর্মানে পাঠক বইবিমুখ, কেউ বই কিনতে চায় না। তবুও কিছু সভ্য মানুষ পাঠক হয়ে ওঠেন প্রতিদিন। এই বনেদি পাঠক এখনো বই পড়ে তবে তারা আস্থা রাখে স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের উপরই। কারণ অনেক পাঠক চোখ ধাঁধানো মলাটের ভেতর তেমন কোনো মসলা খুঁজে পায়নি, তাই তারা নতুন লেখকদের বই কিনতে চায় না এ কথা মানতেই হবে। তবে নতুনদের ভেতর অনেক লেখক আছে প্রতিশ্রুতিশীল।
বতর্মান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে মানুষ অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক, অনেক বেশি ব্যস্ত তাই প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। আগে মানুষের অবসর কাটতো বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে, গল্প করে কিংবা বই পড়ে বা গান শুনে, এখন সময় কাটায় নেটে ঢ়ুকে, স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে গেমস খেলে, এজন্য স্বাভাবিকভাবেই বই পড়ায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। আবার যারা বইপ্রেমী তারা নেট থেকে বিভিন্ন বই ডাউনলোড করে সহজেই পড়ে নিচ্ছে, যার কারণে বইয়ের কপি কম বিক্রি হচ্ছে।
তবে আশার কথা হচ্ছে যে তরুণ সমাজ এখন বইয়ের প্রতি মন দিচ্ছে। তাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে আবার ফিরে আসছে বইয়ের পাতায়। নিজে থেকে খুঁজে নিচ্ছে প্রগতিশীল লেখকদের বই। অন্যদিকে শুধু নাম, যশ, খ্যাতির মোহে আকৃষ্ট হয়ে নামের পাশে কবি, সাহিত্যিক বিশেষণ ব্যবহারের লোভে পড়ে, নিজেকে সেভাবে তৈরি না করেই অনেকে গাঁটের পয়সা খরচ করে বই প্রকাশ করে থাকেন। তারপর মানহীনতার কারণে বা পরিচিতির অভাবে বই রয়ে যায় অবিক্রীত। হতাশ হয়ে পড়েন লেখক।
দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জেগে মেধা খাটিয়ে একটি বই লিখে যখন আবার নিজের টাকায় প্রকাশ করার পরও এক কপি বিক্রি হয় না এর চেয়ে কষ্টের কথা আর কী হতে পারে? কথা হচ্ছে লেখকরা লিখে যাবেন, প্রকাশকরা তাদের প্রয়োজনেই ভালোমানের লেখক খুঁজে বের করে বই প্রকাশ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবেন।
কিন্তু না, হচ্ছে তার উল্টো। লেখকরা বরং ধরনা দিচ্ছে প্রকাশকের কাছে, আর সুযোগটা ভালোভাবেই নিচ্ছে প্রকাশনা সংস্থাগুলো। প্রকাশনীগুলো স্বাভাবিকভাবেই কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়, আর তা যদি হয় নতুন লেখক তবে তো কোনো কথাই নেই। এখন যা হচ্ছে একজন লেখকের সারাবছর মেধা এবং শ্রমের পাশাপাশি হাজার হাজার টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ সৃজনশীল সবসময়। আর সেই সৃজনশীলতার পথ ধরে সহিংসতা-মব-অন্ধতা রুখে দিতে শুদ্ধ মানুষ তৈরিতে বই তথা সাহিত্যের বিকল্প কিছুই নেই। আর এ সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে লেখক এবং প্রকাশক উভয়কেই সততার পরিচয় দিতে হবে। লেখক, প্রকাশক এবং পাঠক কারও থেকে কারও গুরুত্ব কম নয়। পাঠকের প্রতি লেখকের যেমন দায়বদ্ধতা রয়েছে, প্রকাশকেরও উচিত ভালো লেখক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে পথচলা লোভ- মোহহীন নিরন্তর।
পাঠকেরও উচিত দর্শক নয়; প্রকৃত পাঠক হয়ে বেশি বেশি বই ক্রয় করা। সেই সাথে বইমেলায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্ম হোক তা চাই না, চাই না অলেখক-কুলেখকরা লেখক-প্রকাশকদের সাথে কোনোরূপ বাজে আচরণ করুক। মহানবী (সা.) ব্যতীত অন্যায়-অপরাধের ঊর্ধ্বে কোনো মানুষ নেই, অতএব, ভুল হলে বিচারের আওতায় আনা হোক কোনোভাবেই যেন অপমান-অপদস্তু করা না হয়। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে সকলকেই- ‘গায়েবের মালিক কেবল আল্লাহ।’ কাউকে আস্তিক-নাস্তিক বলার মধ্য দিয়ে মবকে যেন অন্তত বইমেলায় কেউ উসকে না দেয়; এ বিষয়ে প্রকৃত মানুষ-সচেতন মানুষদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি ছাত্র-যুব-জনতার পক্ষ থেকে...
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাভাস
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ